Monday, January 12, 2026
Sunday, January 11, 2026
সূরা আল-বাইয়্যিনাহ | আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ
সূরা আল বাইয়্যিনাহ (আরবি: سورة البينة) মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ৯৮ নম্বর সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ৮ টি এবং এর রূকু ১টি। আল বাইয়্যিনাহ সূরাটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে।
বিষয়বস্তুর বিবরণ
প্রথম আয়াতে রসূলুল্লাহ্-এর আবির্ভাবের পূর্বে দুনিয়াতে কুফর, শিরক, ও মূর্খতার ঘোর অন্ধকারের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, এহেন সর্বগ্রাসী অন্ধকার দূর করার জন্যে একজন পারদর্শী সংস্কারক প্রেরণ করা ছিল অপরিহার্য। রসূলুল্লাহ্ -এর জন্ম ও আবির্ভাবের পূর্বে আহ্লে-কিতাবরা সবাই তার নবুওয়তের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করত। কেননা, তাদের ঐশীগ্রন্থ তৌরাত ও ইঞ্জীলে রসূলুল্লাহ্ -এর নবুওয়ত, তার বিশেষ গুণাবলী ও তার প্রতি কোরআন অবতরন সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা ছিল। তাই ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোন বিরোধ ছিল না যে, শেষ যমানার নবী ও রসূল হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা আগমন করবেন, তার প্রতি কোরআন নাযিল হবে এবং তার অনুসরণ সবার জন্যে অপরিহার্য হবে। কোরআনেও তাদের এই ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছেঃ
Thursday, January 8, 2026
সূরা আল-ক্বারিয়া | আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ
সূরা আল ক্বারিআহ বা আল ক্বারিয়াহ (আরবি: سورة القارعة) মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ১০১তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ১১টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১। এটি একটি মক্কী সূরা অর্থ্যাৎ এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।
এ সূরার প্রথম শব্দ ক্বারিআহ থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে। এ সূরায় শুধু কিয়ামত ও আখেরাতের ওপর আলোকপাত তরা হয়েছে। সূরার শুরুতে মানুষকে একটি "মহা দুর্ঘটনা!" বলে সতর্ক করা হয়েছে: ‘কী সেই মহা দুর্ঘটনা? তুমি কি জানো সেই মহা দুর্ঘটনাটি কী?’ এভাবে শ্রোতাদেরকে একটি ভয়াবহ ঘটনা অনুষ্ঠিত হবার খবর শোনার জন্য প্রস্তুত করার পর দুটি বাক্যে তাদের সামনে কিয়ামতের নক্শা এঁকে দেয়া হয়েছে।
বিষয়বস্তুর বিবরণ
এ সূরায় আমলের ওজন ও তার হালকা এবং ভারী হওয়ার প্রেক্ষিতে জাহান্নাম অথবা জান্নাত লাভের বিষয় আলোচিত হয়েছে। আমলের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সূরা আ'রাফের শুরুতে করা হয়েছে। সেখানে লিখিত হয়েছে যে, বিভিন্ন হাদীস আয়তের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে জানা যায়, আমলের ওজন সম্ভবতঃ দুবার হবে। প্রথমতঃ ওজন করে মুমিন ও কাফেরের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা হবে। মুমিনের পাল্লা ভারী ও কাফেরর পাল্লা হালকা হবে। এরপর মুমিনদের মধ্যে সৎকর্ম ও অসৎকর্মের পার্থক্য বিধানের জন্যে হবে দ্বিতীয় দফা ওজন করা হবে। এ সূরায় বাহ্যতঃ প্রথম ওজন বোঝানো হয়েছে, যাতে প্রত্যেক মুমিনের পাল্লা ঈমানের অভাবে হালকা হবে, সে যদিও কিছু সৎকর্ম করে থাকে। যার আমল আন্তরিকতাপূর্ণ ও সুন্নতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সংখ্যায় কম হলেও তার আমলের ওজন বেশি হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি সংখ্যায় তো নামায, রোযা, সদকা-যাক্বাত, হজ্জ অনেক করে, কিন্তু আন্তরিকতা ও সুন্নতের সাথে সামঞ্জস্য কম, তার আমলের ওজন কম হবে।
নিচে সূরা আল-ক্বারিয়া (سورة القارعة) আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ শুদ্ধভাবে দেওয়া হলো।
📖 সূরা আল-ক্বারিয়া (سورة القارعة)
🕋 আরবি পাঠ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
الْقَارِعَةُ
مَا الْقَارِعَةُ
وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْقَارِعَةُ
يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِ
وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ
فَأَمَّا مَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ
فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ
وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ
فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ
وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ
نَارٌ حَامِيَةٌ
🔊 বাংলা উচ্চারণ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আল-ক্বারিআহ
মাল-ক্বারিআহ
ওয়া মা আদরাকা মাল-ক্বারিআহ
ইয়াওমা ইয়াকূনুন নাসু কালফারাশিল মাবছূছ
ওয়া তাকূনুল জিবালু কাল‘ইহ্নিল মানফূশ
ফা-আম্মা মান ছাকুলাত মাওয়াজিনুহু
ফাহুয়া ফি ‘ঈশাতির রাদ্বিয়াহ
ওয়া আম্মা মান খাফফাত মাওয়াজিনুহু
ফা উম্মুহু হাওইয়াহ
ওয়া মা আদরাকা মা হিয়াহ
নারুন হামিয়াহ
🌼 বাংলা অর্থ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
ভয়ংকর আঘাতকারী ঘটনা—
কী সেই ভয়ংকর আঘাতকারী?
আর তুমি কী জানো, সেই ভয়ংকর আঘাতকারী কী?
সেদিন মানুষ হবে ছড়িয়ে পড়া পতঙ্গের মতো,
আর পাহাড়সমূহ হবে ধুনো উলের মতো।
অতঃপর যার পাল্লা ভারী হবে,
সে থাকবে সন্তোষজনক জীবনে।
আর যার পাল্লা হালকা হবে,
তার ঠিকানা হবে হাওয়িয়াহ।
আর তুমি কী জানো, তা কী?
তা এক প্রচণ্ড উত্তপ্ত আগুন।
সূরা আত-তাকাসুর | আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ
সূরা আত তাকাসুর (প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা) মহাগ্রন্থ আল কুরআনের ১০২ তম সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ৮ টি এবং রূকুর সংখ্যা ১। আত তাকাসুর সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।
তাকাসুর শব্দটি আরবি: كثرة থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এর অর্থ প্রচুর ধন-সম্পদ সঞ্চয় করা। হযরত ইবনে আব্বাস ও হাসান বসরী তফসীর করেছেন। এ শব্দটি প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা অর্থেও ব্যবহূত হয়। কাতাদাহ্ এ অর্থই করেছেন। হযরত ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ একবার এ আয়াত তেলাওয়াত করে বললেনঃ এর অর্থ অবৈধ পন্থায় সম্পদ সংগ্রহ করা এবং আল্লাহ্র নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করা।
নাযিল হওয়ার সময়কাল
আবু হাইয়ান ও শওকানী বলেন, সকল তাফসীরকার একে মক্কী সূরা গণ্য করেছেন। এ ব্যাপারে ইমাম সুয়ুতির বক্তব্য হচ্ছে, মক্কী সূরা হিসেবেই এটি বেশি খ্যাতি অর্জন করেছে। কিন্তু কিছু কিছু বর্ণনায় একে মাদানী সূরা বলা হয়েছে।
শানে নুযূল
ইবনে আবু হাতেম আবু বুরাইদার রেওয়ায়েত উদ্ধৃত করেছেন। তাতে বলা হয়েছেঃ বনী হারেসা ও বনিল হারস নামক আনসারদের দুটি গোত্রের ব্যপারে এ সূরাটি নাযিল হয়। উভয় গোত্র পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে প্রথমে নিজেদের জীবিত লোকদের গৌরবগাঁথা বর্ণনা করে। তারপর কবরস্থানে গিয়ে মৃত লোকদের গৌরবগাঁধা বর্ণনা করে। তাদের এই আচরণের ফলে আল্লাহ্র এই বাণী নাযিল হয়। কিন্তু শানে নূযুলের জন্য সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈগণ যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তাকে এই সূরা নাযিলের উপলহ্ম বলে মেনে নেবার সপহ্মে প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করা যায় না।
ইমাম বুখারী ও ইবনে জারীর হযরত উবাই ইবনে কাবের একটি উক্তি উদ্ধৃত করেছেনঃ তাতে তিনি বলেছেনঃ "আমরা রসূলে করীম এর এ বাণীটিকে
“ বনি আদমের কাছে যদি দুই উপত্যকা সমান সম্পদ থাকে তারপরও সে তৃতীয় একটি উপত্যকার আকাংহ্মা করবে। আদম সন্তানের পেট মাটি ছাড়া আর কিছু দিয়ে ভরে না। ”
কুরআনের মধ্যে মনে করতাম। এমন কি শেষ পর্যন্ত আলহাকুমুত্ তাকাসুর সূরাটি নাযিল হয়।"[৩]
নিচে সূরা আত-তাকাসুর (سورة التكاثر) আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ শুদ্ধভাবে দেওয়া হলো।
📖 সূরা আত-তাকাসুর (سورة التكاثر)
🕋 আরবি পাঠ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ
حَتَّىٰ زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ
كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ
ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ
كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقِينِ
لَتَرَوُنَّ الْجَحِيمَ
ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقِينِ
ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ
🔊 বাংলা উচ্চারণ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আলহাকুমুত্ তাকাসুর
হাত্তা জুরতুমুল মাকাবির
কল্লা সাওফা তা‘লামুন
ছুম্মা কল্লা সাওফা তা‘লামুন
কল্লা লাও তা‘লামুনা ‘ইলমাল ইয়াকিন
লাতারাওন্নাল জাহিম
ছুম্মা লাতারাওন্নাহা ‘আইনাল ইয়াকিন
ছুম্মা লাতুসআলুন্না ইয়াওমাইযিন ‘আনিন না‘ইম
🌼 বাংলা অর্থ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের উদাসীন করে রেখেছে—
এমনকি তোমরা কবরস্থান পর্যন্ত পৌঁছে গেছ।
কখনোই না! তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে।
অতঃপর আবারও—কখনোই না! তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে।
কখনোই না! যদি তোমরা নিশ্চিত জ্ঞানে জানতে,
তবে অবশ্যই তোমরা জাহান্নাম দেখবে।
অতঃপর তোমরা তা নিশ্চিত দৃষ্টিতে দেখবে।
তারপর সেদিন অবশ্যই তোমাদেরকে নিয়ামতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।
Wednesday, January 7, 2026
সূরা আল-আসর | আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ।
সূরা আল-আসর!! মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ১০৩ তম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৩ টি।
সূরা আল-আসর কুরআনের একটি সংহ্মিপ্ত সূরা তবে মুসলামানদের কাছে এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ন সূরা এবং অনেক মুসলমান মনে করে মানুষ এ সূরাটিকেই চিন্তা ভাবনা সহকারে পাঠ করলে তাদের ইহকাল ও পরকাল সংশোধনের জন্যে যথেষ্ট হয়ে যায়। সূরার বক্তব্য অনুসারে এ সূরায় স্রষ্টা যুগের কসম করে বলেছেন যে, মানবজাতি অত্যন্ত হ্মতিগ্রস্ত এবং এই হ্মতির কবল থেকে কেবল তারাই মুক্ত, যারা চারটি বিষয় নিষ্ঠার সাথে পালন করে - ঈমান বা স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস, সৎকর্ম, অপরকে সত্যের উপদেশ এবং ধর্য্য রাখার উপদেশ দান।
বিষয়বস্তুর বিবরণ
তাফহীমুল কোরআনের ব্যাখ্যা অনুসারে, সময় মানে বিগত সময়-অতীত কালও হতে পারে আবার চলিত সময়ও। এই চলিত বা বর্তমান কাল আসলে কোনো দীর্ঘ সময়ের নাম নয়। বর্তমান কালে প্রতি মুহুর্তে বিগত হচ্ছে এবং অতীতে পরিণত হচ্ছে। আবার ভবিষ্যতের গর্ভ থেকে প্রতিটি মুহুর্ত বের হয়ে এসে বর্তমানে পরিণত হচ্ছে এবং বর্তমান থেকে আবার তা অতীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখানে যেহেতু কোনো বিশেষত্ব ছাড়াই শুধু সময়ের কসম খাওয়া হয়েছে, তাই দুই ধরনের সময় বা কাল এর অন্ত্রভূক্ত হয়। অতীতকালের কসম খাওয়ার মানে হচ্ছেঃ মানুষের ইতিহাস এর সাহ্ম দিচ্ছে, যারাই এই গুনাবলী বিবর্জিত ছিল তারাই পরিনামে হ্মতিগ্রস্ত হয়েছে। আর বর্তমানকালের কসম খাওয়ার অর্থ হল যে, বর্তমানে যে সময়টি অতিবাহিত হচ্ছে সেটি আসলে এমন একটি সময় যা প্রত্যেক ব্যক্তি ও জাতিকে দুনিয়ায় কাজ করার জন্য দেয়া হয়েছে
নিচে সূরা আল-আসর (سورة العصر) সম্পূর্ণভাবে দেওয়া হলো—আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ।
📖 সূরা আল-আসর (سورة العصر)
🕋 আরবি পাঠ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
وَالْعَصْرِ
إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ
إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ
🔊 বাংলা উচ্চারণ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ওয়াল‘আসরি
ইন্নাল ইনসানা লাফি খুসরি
ইল্লাল্লাজিনা আমানু ওয়া ‘আমিলুস সালিহাতি ওয়া তাওয়াসাও বিল হাক্কি ওয়া তাওয়াসাওবিস্সবরি্ ।
🌼 বাংলা অর্থ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আমি শপথ সময়ের,
নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে আছে,
সেটা ছাড়া যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে,
ভালো কাজ করেছে,
এবং সত্যের প্রতি পরামর্শ দিয়েছে
এবং ধৈর্যের প্রতি পরামর্শ দিয়েছে।
সূরা আল-হুমাযা | আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ
সূরা আল- হুমাযাহ! মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ১০৪ তম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৯ টি। এ সূরাটিতে তিনটি জঘন্য গোনাহের কথা বলা হয়েছে। গোনাহ্ তিনটি হল গীবত, সামনাসামনি দোষারোপ করা ও মন্দ বলা এবং অর্থলিপ্সা।
তাফসীর
মানুষের মাঝে বিরাজিত তিনটি পাপকে কঠোর ভাষাতে নিন্দা করা হয়েছে :
১) কুৎসা রটনাকারী, যারা মহিলা বা পুরুষদের সম্বন্ধে খারাপ কথা বলে অথবা কটাক্ষ বা বক্রোক্তি করে অথবা মন্দ আচরণ বা বিদ্রূপ ব্যঙ্গের উদ্দেশ্যে অনুকরণ করে, অথবা অপমান করে ইত্যাদি।
২) গীবতকারী অর্থাৎ যারা পশ্চাতে নিন্দা করে, ব্যক্তির চরিত্রহানি বা মানহানি করে। তাদের বক্তব্য যদি সঠিকও হয়, কিন্তু তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য যদি ব্যক্তির চরিত্র সংশোধন অপেক্ষা ব্যক্তির চরিত্র হননই হয়ে থাকে, তবে তা-ও গীবতের পর্যায়ে পড়ে। কারণ আল্লাহ্ বিচার করবেন কর্মের উদ্দেশ্য বা নিয়ত দ্বারা কর্ম দ্বারা নয়।
৩) যারা সম্পদের পাহাড় গড়তে ভালোবাসে, কিন্তু তা কখনও জনহিতকর কাজে ব্যয় করে না। এ সব লোকেরা কখনও পরলোকের কথা বা মৃত্যুর কথা চিন্তা করে না। অর্থের আদান -প্রদান ও প্রাপ্তি তাদের পরলোকের জীবনকে ভুলিয়ে দেয়, যেনো তারা অনন্তকাল বেঁচে থাকবে। অর্থের প্রতি প্রচন্ড মোহ থেকে কৃপণতা স্বভাবের জন্ম হয় যা একটি কুৎসিত মনের প্রকাশ।
নিচে সূরা আল-হুমাযা (سورة الهمزة) আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ শুদ্ধভাবে দেওয়া হলো।
📖 সূরা আল-হুমাযা (سورة الهمزة)
🕋 আরবি পাঠ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ
الَّذِي جَمَعَ مَالًا وَعَدَّدَهُ
يَحْسَبُ أَنَّ مَالَهُ أَخْلَدَهُ
كَلَّا ۖ لَيُنبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِ
وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ
نَارُ اللَّهِ الْمُوقَدَةُ
الَّتِي تَطَّلِعُ عَلَى الْأَفْئِدَةِ
إِنَّهَا عَلَيْهِم مُّؤْصَدَةٌ
فِي عَمَدٍ مُّمَدَّدَةٍ
🔊 বাংলা উচ্চারণ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ওয়াইলুল্লি কুল্লি হুমাযাতিল লুমাযা
আল্লাজি জামা‘আ মালাওঁ ওয়া ‘আদ্দাদাহু
ইয়াহসাবু আন্না মালাহু আখলাদাহু
কল্লা, লায়ুনবাযান্না ফিল হুতামাহ
ওয়া মা আদরাকা মাল হুতামাহ
নারুল্লাহিল মুকাদাহ
আল্লাতি তাত্তালিউ ‘আলাল আফইদাহ
ইন্নাহা ‘আলাইহিম মু’সাদাহ
ফি ‘আমাদিম মুমাদ্দাদাহ
🌼 বাংলা অর্থ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
ধ্বংস তাদের জন্য, যারা পরনিন্দাকারী ও কটূক্তিকারী।
যে ব্যক্তি ধনসম্পদ জমা করে এবং তা গুনে গুনে রাখে।
সে মনে করে তার ধনই তাকে চিরস্থায়ী করবে।
কখনোই না! তাকে অবশ্যই নিক্ষেপ করা হবে হুতামাহতে।
আর তুমি কি জানো হুতামাহ কী?
এটি আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন,
যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
নিশ্চয়ই তা তাদের ওপর আবদ্ধ করে দেওয়া হবে,
দীর্ঘ স্তম্ভে আবদ্ধ অবস্থায়।
সূরা কুরাইশ | আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ
সূরা -কুরাইশ | Quraysh | سورة قريش মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ১০৬ তম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৪ টি।
এই সূরার ব্যাপারে সব তফসীরকারকই একমত যে, অর্থ ও বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে এই সূরা সূরা-ফীলের সাথেই সম্পৃক্ত। সম্ভবতঃ এ কারণেই কোন কোন মাসহাফে এ দু'টিকে একই সূরারূপে লেখা হয়েছিল। উভায় সূরার মাঝেখানে বিসমিল্লাহ্ লিখিত ছিল না। কিন্তু হযরত ওসমান যখন তাঁর খেলাফতকালে কোরআনের সব মাসহাফ একত্রিত করে একটি কপিতে সংযোজিত করান এবং সাহাবায়ে-কেরামের তাতে ইজমা হয়, তখন তাতে এ দু'টি সূরাকে স্বতন্ত্র দু'টি সূরারূপে সন্নিবেশিত করা এবং উভয়ের মাঝখানে বিসমিল্লাহ্ লিপিবদ্ধ করা হয়। হযরত ওসমান -এর তৈরি এ কপিকে 'ইমাম' বলা হয়।
বিষয়বস্তুর বিবরণ
সুরা কুরাইশের মধ্যে কুরায়েশদের নিকট বায়তুল্লাহর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এবং একনিষ্ঠভাবে কাবার মালিকের ইবাদতের প্রতি আহবান করা হয়েছে। নিম্নে এ বিস্তারিত আলোচনা করা হল—
মুহাম্মদের আগমনের পূর্বকাল থেকেই মক্কার কুরাইশরা বিভিন্ন প্রকার কুসংস্কার ও কাবা শরীফে অবস্থিত ৩৬০টি মূর্তির পূজা করা হতো। তা সত্ত্বেও আল্লাহ তাদের প্রতি বহুবিদ নিয়ামত ও সুযোগ সুবিধা প্রদান করেছিলেন শুধু মাত্র কা’বার কারণেই। এমনকি তারা শীতকালে ইয়ামেন ও গ্রীষ্মে সিরিয়া বা সাম দেশে ব্যাবসা বাণিজ্য করতে অভ্যস্ত ছিল। আর পবিত্র কা’বার কারণেই তারা ইয়ামেন ও সিরিয়া নিরাপদে ব্যাবসা বাণিজ্য করতে পারত। তাছাড়া কাবার জন্যই তারা আবরাহ বাদশাহর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল। আর এসমস্থ বহুবিদ নিয়ামত তারা প্রাপ্ত হয়েছিল শুধু মাত্র কাবার অধিবাসী বলেই। তাই আল্লাহ আলোচ্য সূরায় কাবার গুরুত্ব তুলে ধরে, তথায় অবস্থিত দেব-দেবীর পূজা-আর্চনা না করে, উক্ত ঘরের প্রভু তথা আল্লহর প্রতি ইবাদত করার আহ্বান করেছেন।
নিচে সূরা কুরাইশ (سورة قريش) আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ শুদ্ধভাবে দেওয়া হলো।
📖 সূরা কুরাইশ (سورة قريش)
🕋 আরবি পাঠ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
لِإِيلَافِ قُرَيْشٍ
إِيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ
فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَٰذَا الْبَيْتِ
الَّذِي أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ
وَآمَنَهُم مِّنْ خَوْفٍ
🔊 বাংলা উচ্চারণ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
লি-ইলাফি কুরাইশ
ইলাফিহিম রিহলাতাশ শিতাই ওয়াস সাইফ
ফালইয়া‘বুদু রব্বা হাজাল বাইত
আল্লাজি আত‘আমাহুম মিন জু‘ইন
ওয়া আমানাহুম মিন খাওফ
🌼 বাংলা অর্থ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
কুরাইশদের নিরাপদ রাখার কারণে—
তাদের শীত ও গ্রীষ্মের সফরকে নিরাপদ করার কারণে,
তারা যেন এই ঘরের রবের ইবাদত করে,
যিনি তাদের ক্ষুধা থেকে আহার দিয়েছেন
এবং ভয় থেকে নিরাপত্তা দান করেছেন।
Live Search
🕌 নামাজের সময়সূচি
Date: English & Bangla
Arabi Date (Today)
Translate This Website
Introduce to Modern Thchnologies

























