সূরা আল-আদিয়াত (আরবি: سورة العاديات) মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ১০০ তম সূরা, এর আয়াতের সংখ্যা ১১টি, এর রূকুর সংখ্যা ১টি এবং ৩০ পারা। আ'দিয়াত সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। আল-আদিয়াত এর বাংলা অর্থ হল অভিযানকারী।
সুরা আদিয়াত নাজিলের পটভূমি হল হিজরি অষ্টম সনের একটি যুদ্ধ। মুসলমানদের ওপর অতর্কিতে হামলার অশুভ উদ্দেশ্যে আরবের ইয়াবেস উপত্যকার মুশরিকরা মদীনার পার্শ্ববর্তী এলাকাতে জড়ো হলে মহানবী (সা.) এ সংবাদ পেয়ে আবু বকরের (রা) নেতৃত্বে তাদের প্রতিহত করতে এক সেনাদল পাঠান। কিন্তু তারা ছিল খুবই দুর্ধর্ষ। ফলে আবু বকর ফিরে যেতে বাধ্য হন এবং বহু মুসলমানও নিহত হয়। দ্বিতীয় দিন উমর ইবনে খাত্তাবের (রা) নেতৃত্বে পাঠানো সেনাদলও একইভাবে ব্যর্থ হয়। তৃতীয় দিন আমর ইবনে আস (রা) বলেন, ‘আমাকে যদি নেতা নিযুক্ত করা হয় তবে আমি কৌশলে তাদেরকে হারাব।’ তাকেও পাঠানো হল। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসলেন। কোনো কোনো বর্ণনায় বলা হয় আবু বকর ও উমর কেবল আলোচনার মাধ্যমে ওই শত্রুদের বশে আনার চেষ্টা করেন এবং ব্যর্থ হন। যাই হোক অবশেষে মহানবী (সা.) হযরত আলী (রা) কে নেতা নিযুক্ত করলেন এবং তিনি তাঁকে মসজিদে আহযাব অবধি পৌঁছে দিয়ে বিদায় নিলেন। হযরত আলী সেনাদলকে সঙ্গে নিয়ে রওনা দিলেন এবং রাত থাকতেই তাদের কাছে পৌঁছে গেলেন এবং আক্রমণ করে তাদের বহু লোককে হত্যা করলেন এবং অবশিষ্টকে শৃঙ্খলিত করে নিয়ে আসলেন। এ কারণে ঐ যুদ্ধকে ‘বাতুল আখদাল’ বলা হয়।
এদিকে হযরত আলীর নেতৃত্বে বিজয়ী মুজাহিদরা মদীনা পৌঁছানোর পূর্বেই সুরা আদিয়াত নাজিল হয়। মহানবী (সা.) ফজরের নামাজে এই নতুন সুরা পড়লে সাহাবিরা এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি হযরত আলীর নেতৃত্বাধীন সেনাদের বিজয়ের সুসংবাদ শোনান। মহানবী (সা.) প্রফুল্ল চিত্তে মুজাহিদদের অভ্যর্থনা জানাতে বেরিয়ে আসেন। আর যখন তাঁর ওপর হযরত আলীর দৃষ্টি পড়ল সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘোড়া থেকে নেমে পড়লেন। তখন মহানবী (সা.) বললেন, ‘হে আলী! যদি আমার উম্মতের বিপথগামিতার আশঙ্কা না থাকত তবে তোমার সম্পর্কে আমি সেই কথা বলতাম যারপর মানুষ তোমার পদধূলিকে রোগ-মুক্তির জন্য নিয়ে যেত।
নিচে সূরা আল-আদিয়াত (سورة العاديات) আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ শুদ্ধভাবে দেওয়া হলো।
📖 সূরা আল-আদিয়াত (سورة العاديات)
🕋 আরবি পাঠ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
وَالْعَادِيَاتِ ضَبْحًا
فَالْمُورِيَاتِ قَدْحًا
فَالْمُغِيرَاتِ صُبْحًا
فَأَثَرْنَ بِهِ نَقْعًا
فَوَسَطْنَ بِهِ جَمْعًا
إِنَّ الْإِنسَانَ لِرَبِّهِ لَكَنُودٌ
وَإِنَّهُ عَلَىٰ ذَٰلِكَ لَشَهِيدٌ
وَإِنَّهُ لِحُبِّ الْخَيْرِ لَشَدِيدٌ
أَفَلَا يَعْلَمُ إِذَا بُعْثِرَ مَا فِي الْقُبُورِ
وَحُصِّلَ مَا فِي الصُّدُورِ
إِنَّ رَبَّهُم بِهِمْ يَوْمَئِذٍ لَّخَبِيرٌ
🔊 বাংলা উচ্চারণ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ওয়াল‘আদিয়াতি দাবহা
ফালমূরিয়াতি ক্বদহা
ফালমুঘীরাতি সুবহা
ফা আসারনা বিহি নাক‘আ
ফাওয়াসাতনা বিহি জাম‘আ
ইন্নাল ইনসানা লিরাব্বিহি লাকানূদ
ওয়া ইন্নাহু ‘আলা যালিকা লাশাহীদ
ওয়া ইন্নাহু লিহুব্বিল খাইরি লাশাদীদ
আফালা ইয়াআলামু ইযা বু‘সিরা মা ফিল কুবূর
ওয়া হুসসিলা মা ফিস সোদূর
ইন্না রব্বাহুম বিহিম ইয়াওমাইযিল লাখাবীর
🌼 বাংলা অর্থ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
শপথ দ্রুতগামী ঘোড়াদের, যারা হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে চলে,
অতঃপর যারা ক্ষিপ্রভাবে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়,
অতঃপর যারা ভোরবেলা আক্রমণ করে,
ফলে তারা ধুলো উড়িয়ে দেয়,
অতঃপর সেই ধুলো নিয়ে শত্রুসমূহের ভেতরে ঢুকে পড়ে।
নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ।
এবং সে নিজেই তার বিষয়ে সাক্ষী।
এবং নিশ্চয়ই সে ধনসম্পদের ভালোবাসায় খুবই আসক্ত।
সে কি জানে না, যখন কবরসমূহের ভেতরের সবকিছু উলটেপালটে বের করে দেওয়া হবে,
এবং অন্তরে যা আছে তা প্রকাশ করে দেওয়া হবে?
নিশ্চয়ই সেদিন তাদের রব তাদের সম্পর্কে সবকিছুই পূর্ণ অবগত থাকবেন।

















