সূরা আল ক্বারিআহ বা আল ক্বারিয়াহ (আরবি: سورة القارعة) মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ১০১তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ১১টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১। এটি একটি মক্কী সূরা অর্থ্যাৎ এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।
এ সূরার প্রথম শব্দ ক্বারিআহ থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে। এ সূরায় শুধু কিয়ামত ও আখেরাতের ওপর আলোকপাত তরা হয়েছে। সূরার শুরুতে মানুষকে একটি "মহা দুর্ঘটনা!" বলে সতর্ক করা হয়েছে: ‘কী সেই মহা দুর্ঘটনা? তুমি কি জানো সেই মহা দুর্ঘটনাটি কী?’ এভাবে শ্রোতাদেরকে একটি ভয়াবহ ঘটনা অনুষ্ঠিত হবার খবর শোনার জন্য প্রস্তুত করার পর দুটি বাক্যে তাদের সামনে কিয়ামতের নক্শা এঁকে দেয়া হয়েছে।
বিষয়বস্তুর বিবরণ
এ সূরায় আমলের ওজন ও তার হালকা এবং ভারী হওয়ার প্রেক্ষিতে জাহান্নাম অথবা জান্নাত লাভের বিষয় আলোচিত হয়েছে। আমলের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সূরা আ'রাফের শুরুতে করা হয়েছে। সেখানে লিখিত হয়েছে যে, বিভিন্ন হাদীস আয়তের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে জানা যায়, আমলের ওজন সম্ভবতঃ দুবার হবে। প্রথমতঃ ওজন করে মুমিন ও কাফেরের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা হবে। মুমিনের পাল্লা ভারী ও কাফেরর পাল্লা হালকা হবে। এরপর মুমিনদের মধ্যে সৎকর্ম ও অসৎকর্মের পার্থক্য বিধানের জন্যে হবে দ্বিতীয় দফা ওজন করা হবে। এ সূরায় বাহ্যতঃ প্রথম ওজন বোঝানো হয়েছে, যাতে প্রত্যেক মুমিনের পাল্লা ঈমানের অভাবে হালকা হবে, সে যদিও কিছু সৎকর্ম করে থাকে। যার আমল আন্তরিকতাপূর্ণ ও সুন্নতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সংখ্যায় কম হলেও তার আমলের ওজন বেশি হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি সংখ্যায় তো নামায, রোযা, সদকা-যাক্বাত, হজ্জ অনেক করে, কিন্তু আন্তরিকতা ও সুন্নতের সাথে সামঞ্জস্য কম, তার আমলের ওজন কম হবে।
নিচে সূরা আল-ক্বারিয়া (سورة القارعة) আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ শুদ্ধভাবে দেওয়া হলো।
📖 সূরা আল-ক্বারিয়া (سورة القارعة)
🕋 আরবি পাঠ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
الْقَارِعَةُ
مَا الْقَارِعَةُ
وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْقَارِعَةُ
يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِ
وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ
فَأَمَّا مَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ
فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ
وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ
فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ
وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ
نَارٌ حَامِيَةٌ
🔊 বাংলা উচ্চারণ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আল-ক্বারিআহ
মাল-ক্বারিআহ
ওয়া মা আদরাকা মাল-ক্বারিআহ
ইয়াওমা ইয়াকূনুন নাসু কালফারাশিল মাবছূছ
ওয়া তাকূনুল জিবালু কাল‘ইহ্নিল মানফূশ
ফা-আম্মা মান ছাকুলাত মাওয়াজিনুহু
ফাহুয়া ফি ‘ঈশাতির রাদ্বিয়াহ
ওয়া আম্মা মান খাফফাত মাওয়াজিনুহু
ফা উম্মুহু হাওইয়াহ
ওয়া মা আদরাকা মা হিয়াহ
নারুন হামিয়াহ
🌼 বাংলা অর্থ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
ভয়ংকর আঘাতকারী ঘটনা—
কী সেই ভয়ংকর আঘাতকারী?
আর তুমি কী জানো, সেই ভয়ংকর আঘাতকারী কী?
সেদিন মানুষ হবে ছড়িয়ে পড়া পতঙ্গের মতো,
আর পাহাড়সমূহ হবে ধুনো উলের মতো।
অতঃপর যার পাল্লা ভারী হবে,
সে থাকবে সন্তোষজনক জীবনে।
আর যার পাল্লা হালকা হবে,
তার ঠিকানা হবে হাওয়িয়াহ।
আর তুমি কী জানো, তা কী?
তা এক প্রচণ্ড উত্তপ্ত আগুন।

















