সূরা আত তাকাসুর (প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা) মহাগ্রন্থ আল কুরআনের ১০২ তম সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ৮ টি এবং রূকুর সংখ্যা ১। আত তাকাসুর সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।
তাকাসুর শব্দটি আরবি: كثرة থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এর অর্থ প্রচুর ধন-সম্পদ সঞ্চয় করা। হযরত ইবনে আব্বাস ও হাসান বসরী তফসীর করেছেন। এ শব্দটি প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা অর্থেও ব্যবহূত হয়। কাতাদাহ্ এ অর্থই করেছেন। হযরত ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ একবার এ আয়াত তেলাওয়াত করে বললেনঃ এর অর্থ অবৈধ পন্থায় সম্পদ সংগ্রহ করা এবং আল্লাহ্র নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করা।
নাযিল হওয়ার সময়কাল
আবু হাইয়ান ও শওকানী বলেন, সকল তাফসীরকার একে মক্কী সূরা গণ্য করেছেন। এ ব্যাপারে ইমাম সুয়ুতির বক্তব্য হচ্ছে, মক্কী সূরা হিসেবেই এটি বেশি খ্যাতি অর্জন করেছে। কিন্তু কিছু কিছু বর্ণনায় একে মাদানী সূরা বলা হয়েছে।
শানে নুযূল
ইবনে আবু হাতেম আবু বুরাইদার রেওয়ায়েত উদ্ধৃত করেছেন। তাতে বলা হয়েছেঃ বনী হারেসা ও বনিল হারস নামক আনসারদের দুটি গোত্রের ব্যপারে এ সূরাটি নাযিল হয়। উভয় গোত্র পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে প্রথমে নিজেদের জীবিত লোকদের গৌরবগাঁথা বর্ণনা করে। তারপর কবরস্থানে গিয়ে মৃত লোকদের গৌরবগাঁধা বর্ণনা করে। তাদের এই আচরণের ফলে আল্লাহ্র এই বাণী নাযিল হয়। কিন্তু শানে নূযুলের জন্য সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈগণ যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তাকে এই সূরা নাযিলের উপলহ্ম বলে মেনে নেবার সপহ্মে প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করা যায় না।
ইমাম বুখারী ও ইবনে জারীর হযরত উবাই ইবনে কাবের একটি উক্তি উদ্ধৃত করেছেনঃ তাতে তিনি বলেছেনঃ "আমরা রসূলে করীম এর এ বাণীটিকে
“ বনি আদমের কাছে যদি দুই উপত্যকা সমান সম্পদ থাকে তারপরও সে তৃতীয় একটি উপত্যকার আকাংহ্মা করবে। আদম সন্তানের পেট মাটি ছাড়া আর কিছু দিয়ে ভরে না। ”
কুরআনের মধ্যে মনে করতাম। এমন কি শেষ পর্যন্ত আলহাকুমুত্ তাকাসুর সূরাটি নাযিল হয়।"[৩]
নিচে সূরা আত-তাকাসুর (سورة التكاثر) আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ শুদ্ধভাবে দেওয়া হলো।
📖 সূরা আত-তাকাসুর (سورة التكاثر)
🕋 আরবি পাঠ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ
حَتَّىٰ زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ
كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ
ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ
كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقِينِ
لَتَرَوُنَّ الْجَحِيمَ
ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقِينِ
ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ
🔊 বাংলা উচ্চারণ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আলহাকুমুত্ তাকাসুর
হাত্তা জুরতুমুল মাকাবির
কল্লা সাওফা তা‘লামুন
ছুম্মা কল্লা সাওফা তা‘লামুন
কল্লা লাও তা‘লামুনা ‘ইলমাল ইয়াকিন
লাতারাওন্নাল জাহিম
ছুম্মা লাতারাওন্নাহা ‘আইনাল ইয়াকিন
ছুম্মা লাতুসআলুন্না ইয়াওমাইযিন ‘আনিন না‘ইম
🌼 বাংলা অর্থ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের উদাসীন করে রেখেছে—
এমনকি তোমরা কবরস্থান পর্যন্ত পৌঁছে গেছ।
কখনোই না! তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে।
অতঃপর আবারও—কখনোই না! তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে।
কখনোই না! যদি তোমরা নিশ্চিত জ্ঞানে জানতে,
তবে অবশ্যই তোমরা জাহান্নাম দেখবে।
অতঃপর তোমরা তা নিশ্চিত দৃষ্টিতে দেখবে।
তারপর সেদিন অবশ্যই তোমাদেরকে নিয়ামতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।





















